কুড়িগ্রামে ব্যবসায়ীদের গুদামে সরকারি চাল, গভীর রাতে পুলিশের অভিযান
কুড়িগ্রামে ব্যবসায়ীদের তিনটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কাশিমবাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজির বস্তাসহ সাধারণ বস্তায় রাখা আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। মোট পরিমাণ প্রায় ২০ টন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চালগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্লা মিয়ার গুদাম থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্ধার করা চাল ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি গোপনে এসব চাল পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেগুলো পরিষদের গুদাম থেকে সরিয়ে এনে ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুত করা হয়। এ কারণে প্রকৃত উপকারভোগী দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে বরাদ্দ পাওয়া ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফের চাল শতভাগ বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা চালের উৎস সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন বলেন, জব্দ করা চাল সরকারি দপ্তরের। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন কাজ করছে। গুদাম থেকে জব্দ করা চালের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।