ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শৌচাগারে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় পড়ে ছিল অধ্যক্ষের লাশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শৌচাগারের ভেতরে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের লাশ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার সকাল নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরার ২ নম্বর লোকেশনের আবাসিক এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্বজনদের ধারণা, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোস্তাব আলী (৫৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিরাসা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি নাটোর উপজেলা সদরের পাইকপাড়ার মৃত মজিদ উদ্দিন সরকারের ছেলে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে বিজিএফসিএলের আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরার ২ নম্বর লোকেশনের আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর সঙ্গে থাকতেন স্ত্রী বিলকিস বেগম, ছেলে আহমেদ ওয়াসিফ ওরফে পিতুল ও ছেলের স্ত্রী।
নিহত অধ্যক্ষের ভাই নাটোরের পুঠিয়ার ঝলমলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তাঁর ভাই আত্মহত্যা করার মতো মানুষ ছিলেন না। তাঁর মৃত্যুর পেছনের কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর ভাইকে আত্মহত্যার প্ররোচনাও দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
পরিবার, সহকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে গাড়িচালক জয়নাল আবেদীন মোল্লাকে ফোন করেন মোস্তাব আলী। জয়নালের সঙ্গে তাঁর ১৭ মিনিট কথা হয়। মুঠোফোনে চালককে ৯টার দিকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেন। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নয়টার দিকে অধ্যক্ষের ছেলে ওয়াসিফ আহমেদ নিরাপত্তাপ্রহরী জিয়াউল হককে একটি শাবল নিয়ে আসতে বলেন। পরে নিরাপত্তাপ্রহরী, গাড়িচালক ও তিনি (ওয়াসিফ) মিলে বাসার শৌচাগারের দরজা ভেঙে ঝরনার পাইপের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় অধ্যক্ষকে দেখতে পান। সেখান থেকে তাঁকে কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান তাঁরা। খবর পেয়ে চিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যক্ষকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গাড়িচালক জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও নিরাপত্তাপ্রহরী জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, শৌচাগার থেকে বের করার পর অধ্যক্ষ মোস্তাব আলী একটি বড় নিশ্বাস নেন। ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো বেঁচে আছেন। কিন্তু চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তিনজন প্রভাষক প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের ব্যবসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে টাকা নেন তিনি। গত বুধবার সকালেও এক পাওনাদার টাকার জন্য কলেজে এসেছিলেন।
মোস্তাব আলীর ছেলে ওয়াসিফ আহমেদ বলেন, তাঁর বাবা ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ করেছিলেন। ঋণের কারণে তাঁর বাবা গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক আবদুল কাদের ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাফায়েত জানিয়েছেন, ওই অধ্যক্ষ গত মার্চে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।