বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান বিচারপতির

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। আজ শনিবার সিলেট শহরতলির একটি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টেছবি: প্রথম আলো

বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে জানিয়ে এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।

আজ শনিবার সিলেট শহরতলির একটি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আদালতের বিচারকেরা অংশ নেন।

অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিচারকদের নির্দেশনা দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বিচারকদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকেরা অনুষ্ঠানে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেটস্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি ফর সাবঅর্ডিনেট কোর্টসের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তাঁরা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।