মুরগি বিক্রির কথা বলে ক্রেতাকে ডাকেন খামারি, পথে ছিনতাইয়ের ‘নাটক’ সাজিয়ে লুট

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ দুপুরে মিরসরাই থানা থেকে তোলাছবি: প্রথম আলো

খামার থেকে মুরগি কিনতে দুই ক্রেতাকে ডেকেছিলেন ব্যবসায়ী। ওই দুই ক্রেতাকে পথ দেখিয়ে দিতে একজনকে পাঠিয়েছিলেনও তিনি। তবে দুই ক্রেতার কাছে মুরগি বিক্রির উদ্দেশ্যে তাঁর ছিল না। পথেই নিজের পরিচিত মুখোশধারীদের দিয়ে ক্রেতাদের টাকা ছিনতাই করেন তিনি। এরপর কুপিয়ে ওই দুই ক্রেতাকে জখম করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের কর্মকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই খামারমালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। আহত দুই ক্রেতা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খামারমালিকের নাম নাহিদ হোসেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্য। শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সহকারী শাহেদ আহমেদকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী দুই ক্রেতা হলেন, মো. শফি (৩৯) ও মানিক (২৬)। গতকাল তাঁরা চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে মুরগি কিনতে মিরসরাইয়ের একটি খামারে যাচ্ছিলেন। খামারটির মালিক নাহিদ হোসেনই তাঁদের ডেকেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহেদ আহমেদ নামের এক যুবক তাঁদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে কর্মকারপাড়া এলাকার একটি শ্মশানের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শাহেদ পালিয়ে যান। আর দুই ক্রেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তাঁদের কাছ থেকে তিন লাখ তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, রাত ১০টার দিকে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে নাহিদ হোসেন ও শাহেদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যে শাহেদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি রামদা, ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১টি মুঠোফোন ও কয়েকটি মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।