কৌশলে ডেকে এনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায় করতেন তাঁরা
বিভিন্ন কৌশলে পুরুষদের ডেকে আনা হতো। এরপর নারীদের দিয়ে ফাঁদ পেতে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগী পুরুষ ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো। এমন একটি চক্রের তিন সদস্যকে আটকের দাবি করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রোববার সদর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির অপহরণের অভিযোগ পায় তারা। শহরের নতুনবাজার থেকে ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির স্বজনদের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা। টাকা না পেলে ওই ব্যক্তির অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনের জন্য একটি মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও দেওয়া হয়।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রোববার অভিযানে নামে। পরে প্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৌর এলাকার নিজনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে রোববার রাতে এক পুরুষ ও দুই নারীকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিজনান্দুয়ালী গ্রামের শাহিনুর শেখ (৪২) নামের একজনকে এই চক্রের মূল হোতা বলে দাবি করছে পুলিশ। অন্য দুই নারী তাঁর সহযোগী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানতে পেরেছেন। যেখানে চক্রের নারী সদস্যরা মুঠোফোনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে তাঁদের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ডেকে এনে কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করতেন শাহিনুর। পরে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শাহিনুরের মুঠোফোন ঘেঁটে এ রকম কয়েকজনের জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালসহ বিভিন্ন সময়ে দুটি খুন, অস্ত্রসহ অপহরণের ৬টি মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, অভিযুক্তদের নামে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তদন্ত করা হচ্ছে।