মামলা ও বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ ভাগ উত্তর ইউনিয়নের গৌড়নগর এলাকায় প্রাকৃতিক টিলা কাটার অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই দুই ব্যক্তির নামে একটি মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল গৌড়নগর গ্রামের নজমুল ইসলাম ও কামরুল ইসলামকে। কিন্তু মামলা হওয়ার পর দুই বছর পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে ২০২১ সালের জুন মাসে সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের ১২ বিঘা খাসজমি থেকে হিজল-করচসহ ১৫–২০ হাজার গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ জুন বড়লেখা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলার আসামিরা হলেন—বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মনাদি গ্রামের জয়নাল উদ্দিন, কাজীরবন্দের মক্তদির আলী, মশাঈদ আলী, রিয়াজ আলী, জয়নাল উদ্দিন, কালা মিয়া ও সুরুজ আলী। এই মামলায় আরও ১৫–২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি এখনো। ফলে এসব মামলার বিচার নিষ্পত্তি হতে বিলম্ব হচ্ছে।

এমন অবস্থায় অভিযোগপত্র জমায় বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল আমিনকে সরাসরি আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছেন বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জিয়াউল হক। গত ২৪ আগস্ট মালাম বিলের গাছ কাটার মামলা এবং ৪ অক্টোবর টিলা কাটার মামলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর তদন্ত কর্মকর্তা মালাম বিলের গাছ কাটার মামলার জন্য ২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগপত্র জমা দিতে বিলম্ব হওয়ার জন্য লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে তিন মাস সময় চেয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র জমার জন্য ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন। এ ছাড়া টিলা কাটার মামলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে জবাব দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। মামলা কেবল হাতে নিয়েছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেব।’

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি মামলায় সময় নেওয়া হয়েছে। আরেকটি মামলাতেও সময় নেওয়া হবে। মৌলভীবাজার অনেক বড় জায়গা, বড় জেলা। এখানে পাহাড়-টিলা কাটা, বালু উত্তোলনের ঘটনা আছে। কিন্তু আমাদের লোকবলের সংকট আছে। গাড়ি নেই। অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। একজন মাত্র পরিদর্শক। তিনিই দুটি মামলার তদন্ত করছেন। এ জেলায় ন্যূনতম তিন–চারজন পরিদর্শক দরকার। এসব কারণে তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, দুটি মামলায় দীর্ঘদিনেও আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এটা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার নজির। মূলত পরিবেশ-সংক্রান্ত অপরাধের মামলায় দায়িত্বশীল দপ্তরগুলো প্রায়ই ঢিলেঢালা ও দায়সারা গোছের মামলা করে থাকে। মামলার এজাহারে ত্রুটি, তদন্তে ধীরগতি ও গাফিলতির কারণে এসব মামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়ে উঠছে।