আজ থেকে মাছ ধরার অনুমতি পেয়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে। ইতিমধ্যে মাছ ধরতে সুন্দরবনের পথে রওনা দিয়েছেন কয়রা উপজেলার কয়েক শ জেলে।

কয়রার মহারাজপুর এলাকার বনজীবী আবুল হাসানের সঙ্গে দেখা হয় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে। তিনি বলেন, ‘সবার আগে অফিসে পাস নিতে এসেছি। তিন দিন সুন্দরবন বন্ধ ছিল। অনুমতি নিয়ে আগে যেতে পারলে বেশি মাছ পাব, এ জন্য আগে এসেছি।’

কয়েকজন জেলে বলেন, একেকটি নৌকায় দুই থেকে তিনজন জেলে থাকেন। প্রতিটি নৌকার জেলেরা সাত দিনের জ্বালানি, খাদ্য, পানি, মাছ সংরক্ষণের বরফসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে পরিবারের মায়া-মমতা ও ভালোবাসা ত্যাগ করে ছোটেন গহিন সুন্দরবনে মাছ শিকারের জন্য।

কয়রার উত্তর বেদকাশী পাথরখালী এলাকার জেলে ময়জুদ্দিন মোড়ল বলেন, ‘৪০ বছর ধরে জঙ্গল করি (সুন্দরবন উপকূলের মানুষের ভাষায় “জঙ্গল করা” মানে সুন্দরবনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা)। ফরেস্ট অফিস সাত দিনের অনুমতি দিয়েছে এবার। মাঝেমধ্যে বনের মধ্যে কোনো কিছুর আওয়াজ শুনলে মনে হয়, আর বুঝি বউ ও ছেলেমেয়েদের কাছে ফিরে যেতে পারব না। তারপরও জঙ্গলে যাই বউ ও ছেলেমেয়েদের একটু ভালো খাওয়ানো, ভালো থাকানোর জন্য। আর যত দিন বেঁচে থাকব এবং সক্ষম থাকব, তত দিন সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাবই। তাতে বাঁচি আর মরি।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার বানিয়াখালী, কাশিয়াবাদ, কোবাদক স্টেশনসহ খুলনা রেঞ্জের আওতায় ২ হাজার ৯০০টি নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে। অনুমোদন নিয়ে আজ কয়রার তিনটি স্টেশন থেকে ৪০০ নৌকা বনে প্রবেশ করেছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে অনুমোদন পওয়া বাকি নৌকাও বনে প্রবেশ করবে।

সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, আজ থেকে অভয়ারণ্য এলাকা বাদ রেখে জেলেরা বন বিভাগের পাস নিয়ে পুনরায় বনের নদী-খালে মাছ আহরণ করতে পারছেন। বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার রোধে বন বিভাগের পৃথক দলও গঠন করা আছে। বনের বিষ দস্যুদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

কয়রার কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বলেন, ‘তিন দিন পর আবার সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর সুন্দরবনে মাছ শিকার করতে গেলে জীবনের ঝুঁকি তো একটু থাকবেই। তবে আমরা বনজীবী জেলেদের সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ আজ কয়রার তিনটি স্টেশন থেকে এক হাজার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন বলে তিনি ধারণা করছেন।