মৌলভীবাজারের কুলাউড়া
শিববাড়ির ‘সহস্রভুজা দুর্গা’
আগামীকাল শনিবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শিববাড়ির ভেতরে কারুকাজে ভরা তিনটি মন্দির। এর মধ্যে একটির দোতলায় রয়েছে সিমেন্টের তৈরি উঁচু সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা। আগামীকাল শনিবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিববাড়িতে নামবে পুণ্যার্থীর ঢল।
শিববাড়িতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন এবারই প্রথম নয়, বহুকাল আগে থেকে তা চলে আসছে। তবে এবার থেকে প্রতিবছর পূজিত হবেন সহস্রভুজা দুর্গা। পারিবারিকভাবে এই পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাড়িতে প্রবেশমুখেই পাকা সুদৃশ্য তোরণ। সামনে শান–বাঁধানো ঘাটের বড় পুকুর। বাড়ির ভেতরে পাশাপাশি তিনটি মন্দির। ‘আনন্দ সেবাধাম’ নামের মন্দিরের দোতলায় দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। সিমেন্টের তৈরি এই প্রতিমার উচ্চতা ২৩ ফুট। প্রতিমার সহস্র হাত। এ কারণেই তাঁকে সহস্রভুজা বলা হয়। রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবীর সৌন্দর্য। কারিগরেরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন, কোনো কাজ বাকি পড়ল কি না। পাশাপাশি ঝাড়পোছেরও কাজ চলছে।
শেষ মুহূর্তের কাজ তদারক করছিলেন শিববাড়ির বাসিন্দা পুলক সোম। তিনি, বাড়িতে থাকা আরও দুই ভাই নিয়মিত মন্দিরে স্থাপিত বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজাঅর্চনা করে থাকেন।
জানতে চাইলে পুলক বলেন, প্রখ্যাত বেতার সম্প্রচারক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র চণ্ডী পাঠের সময় দেবী দুর্গাকে কখনো দশভুজা, কখনো অষ্টাদশভুজা আবার কখনো সহস্রভুজা উল্লেখ করেছেন। মহিষাসুর বধের সময় দেবী যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন, তাতেও তিনি সহস্রভুজা ছিলেন। তাই সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এবার থেকে নিয়মিত এই প্রতিমার পূজা হবে। প্রতিমার বিসর্জন হবে না।
পুলক বলেন, শত বছর ধরে তাঁদের বাড়িতে শারদীয় দুর্গোৎসব হচ্ছে। তাঁদের দাদা এই উৎসবের প্রচলন করেন। ভক্তদের সহযোগিতায় মন্দিরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ হয়েছে।
পুলক সোম বলেন, নরসিংদীর একদল কারিগর সহস্রভুজা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন। এতে সময় লেগেছে প্রায় চার মাস। খরচ কত পড়েছে জানতে চাইলে পুলক বলেন, মা আনন্দময়ীই (দেবী দুর্গা) সব কুলিয়েছেন।
পুলক বলেন, নিরাপত্তার জন্য শিববাড়ির বিভিন্ন স্থানে ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।
কুলাউড়া থানার ওসি মো. আবদুছ ছালেক প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সর্বজনীন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোট ২১৮টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব হচ্ছে। এর মধ্যে শিববাড়িতে ভক্তদের সমাগম বেশি হয়।