প্রথম আলো, কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক প্রয়াত এম সাদেকের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আমন্ত্রিত অতিথিরা এম সাদেককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে খুব বেশি সচ্ছলতা ছিল না এম সাদেকের। তিনি সব সময় স্রোতের বিপরীতে হেঁটেছেন, ছিলেন একজন নির্লোভ মানুষ। এ কারণে মৃত্যুর পরও কুমিল্লার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত প্রথম আলো কুমিল্লা কার্যালয়ে এম সাদেকের স্মরণে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এটির আয়োজন করেন কুমিল্লা বন্ধুসভার সদস্যরা। এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন নগরের কান্দিরপাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম। ইফতার মাহফিলে কুমিল্লা বন্ধুসভার বন্ধুরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা বন্ধুসভার উপদেষ্টা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, দিলনাশি মোহসেন, সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাদিক মামুন, কুমিল্লা এভারকেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন, প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি আবদুর রহমান, সাংবাদিক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রথম আলো কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা (জুয়েল), বন্ধুসভার জ্যেষ্ঠ বন্ধু ও ব্যাংকার এ বি এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
কুমিল্লা বন্ধুসভার সভাপতি প্রশান্ত কর্মকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হানিফ মোসাব্বিরের সঞ্চালনায় মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভা কুমিল্লার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, সাংবাদিক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, কুমিল্লা বন্ধুসভার সহসভাপতি শামসুজ্জোহা মৃদুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহির বিন আইউব, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহম্মেদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া খানম, অর্থ সম্পাদক চন্দন চন্দ্র দাস, প্রচার সম্পাদক আহসান হোসেন (সিফাত), পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক তাসনীম মীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জেনিবা খন্দকার (বন্নি), ম্যাগাজিন সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লার বন্ধুসভার বন্ধু মো. নাসিফ উদ্দিন, ফাহমিদ হাসান, ইয়াছিন আরাফাত, খালিদ হাসান প্রমুখ।
পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনে এম সাদেক একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, এম সাদেক তাঁর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। এম সাদেক লোভ–লালসার ঊর্ধ্বে থেকে যেভাবে ফটোসাংবাদিকতা করেছেন, বর্তমান সময়ে সেটা বিরল। তিনি শুধু ভালো ছবিই তুলতেন না, এম সাদেক একজন ভালো মানুষও ছিলেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে গেছেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে এম সাদেক একজন সৎ মানুষ ছিলেন। তিনি পারিবারিক জীবন অনেক কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার করেছেন, কিন্তু কখনোই নিজেকে অসৎ পদে ধাবিত করেননি।
প্রসঙ্গত, হার্ট অ্যাটাকে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কুমিল্লা নগরের বেসরকারি একটি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান প্রথম আলোর কুমিল্লা কার্যালয়ের ফটোসাংবাদিক এম সাদেক। ওই দিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কুমিল্লা শহরতলির গোমতী নদীর পাড়ে চানপুর এলাকায় এম সাদেক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নগরের অশোকতলা এলাকার বাসিন্দা এম সাদেক মৃত্যুকালে এক ছেলে, স্ত্রী, পুত্রবধূ, নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।