মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়: বন ও পরিবেশমন্ত্রী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর এলাকায় বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আজ দুপুরেছবি: প্রথম আলো।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় ফেনী ও নোয়াখালী এলাকায় নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। নদীর দুই দিকেই ভাঙছে। এ–সংক্রান্ত একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজারের কাজ শুরু হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে আবদুল আউয়াল মিন্টু এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা তাঁকে আমাদের সমস্যার কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে তিনি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।’

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর শুধু মুছাপুরের সমস্যা নয়, এটা পুরো নোয়াখালীর সমস্যা। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বেঁচে আছেন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি জানেন। মুছাপুর রেগুলেটর সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমাকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’ মন্ত্রী এ সময় এক কৃষকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নোয়াখালীকে বাঁচাতে, নোয়াখালীর মানুষকে বাঁচাতে হবে। মুছাপুর রেগুলেটর নোয়াখালী মানুষের জীবন–মরণ সমস্যা।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহ, ঢাকা পাউবোর (পূর্ব রিজিয়ন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। ফলে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ভাঙন প্রতিরোধ ও পানিনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে নতুন একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।