থানা চত্বরে ওসির ছেলের জন্মদিন উদ্‌যাপন, কেক কাটার ভিডিও ভাইরাল

বগুড়ার শেরপুর থানার গাড়ির গ্যারেজে ওসির ছেলের জন্মদিন উদ্‌যাপন। মঙ্গলবার রাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর থানা চত্বরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলের জন্মদিন উদ্‌যাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে থানার মূল ভবন থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে গাড়ির গ্যারেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

থানার গাড়ির গ্যারেজে জন্মদিনের কেক কাটার পাশাপাশি অতিথিদের রাতের খাবার খাওয়ানো হয়। খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, মাছ, মাংস ও দই-মিষ্টি। অনুষ্ঠানে শেরপুর থানা ও টাউন পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরাসহ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম উপস্থিত আছেন। অতিথিদের নিয়ে ওসি ও তাঁর স্ত্রী ছেলের জন্মদিনের কেক কাটছেন। পরে তাঁদের খাবার খাওয়ানো হয়।

শেরপুর থানা চত্বরের মধ্যে থানার মূল ভবন, গাড়ির গ্যারেজ এবং ওসির আবাসিক কোয়ার্টার। মূল থানা ভবন থেকে ৩০ ফুট দূরে গ্যারেজ এবং সেখান থেকে ৬০ থেকে ৭০ ফুট দূরে তাঁর আবাসিক ভবন। আবাসিক ভবনে জন্মদিন আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গ্যারেজে অনুষ্ঠানটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী।

জানতে চাইলে ওসি এস এম মঈনুদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, থানায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি পরিবার নিয়ে আবাসিক ভবনে থাকেন। ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে বাইরে কোনো জায়গা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ জন্য পুলিশের কাছে আসা মানুষের উপস্থিতি কমে গেলে রাতে গ্যারেজে কেক কাটা ও খাবারের আয়োজন করা হয়। এটি পারিবারিক আয়োজন ছিল।

ওসি আরও বলেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাবেক মেয়র জানে আলমকে দাওয়াত করেছিলেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম তখন থানায় কাজে আসায় তাঁদেরও অনুষ্ঠানে থাকার অনুরোধ করেন। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের কারণে থানার নিরাপত্তা বা কার্যক্রমে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, থানার আবাসিক ভবনে বসবাসকারী কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যের পারিবারিকভাবে ছোটখাটো অনুষ্ঠান করলে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আইনি বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা নেই।