সরাইলে সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির লাশ দাফন করেই প্রতিপক্ষের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির লাশ দাফন করেই ওই ব্যক্তির পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সোয়া ছয়টা থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের (৪৫) সঙ্গে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। গত রোববার সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা–কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে এদিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হাদিম মিয়া (৫৫) প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে নিহত হন। তিনি ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাদিম মিয়ার লাশ দাফন করা হয়। দাফন কাজ শেষে ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত তরুণ-যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে কালীকচ্ছ বাজারে অবস্থিত সূর্যকানন্দি গ্রামের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে থাকে। করা হয় অগ্নিসংযোগ। কালীকচ্ছ বাজারটির মূল অংশ সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের সূর্যকান্দি এলাকায় পড়েছে।
লুটপাট চলাকালে সরাইল থানা–পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েও হামলাকারীদের সরাতে পারেনি। সংঘর্ষ চলাকালে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়ায়। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ছুড়লে রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, লাশ দাফনের পর থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিততি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।