জয়দেবপুর রেলগেটে আবার উচ্ছেদ অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ স্থাপনা
গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ জয়দেবপুর রেলগেট এলাকা আবার দখলমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার দখল হয়ে যায় জয়দেবপুরের রেলগেট এলাকা। সর্বশেষ ৩০ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানও আংশিক শেষ হওয়ার পর ২০ মিনিট পরেই আবার দখলে চলে যায়।
আজ বুধবার নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। গাজীপুর সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করা হয় এলাকা। সরিয়ে দেওয়া হয় অবৈধ দোকানপাট, হকার ও অস্থায়ী স্থাপনা।
অভিযানের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন, দখলমুক্ত ও বাসযোগ্য ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের পর আবার দখল রোধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শওকত হোসেন সরকার আরও বলেন, ‘এটি এক দিনের অভিযান নয়, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা চাই, এই এলাকা স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলার মধ্যে থাকুক এবং নগরবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।’
এদিকে দখলমুক্ত অবস্থা স্থায়ী করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি যেন আর কখনো অবৈধ দখলে না যায়, সে জন্য তাঁরা সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই টাস্কফোর্স মোবাইল ইউনিট হিসেবে অন্তত আগামী এক মাস ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে, যাতে কেউ নতুন করে দোকানপাট বসাতে বা দখলে নিতে না পারে।
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকার প্রশ্ন তুলে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।