সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকবর আলী বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের খাট্টা শাহাপুর মৌজায় সোয়া ১৭ শতক জায়গা কেনেন। ওই জমিটি নয়নজলী (চৌবাচ্চা) হিসেবে খতিয়ানভুক্ত। জমিটিতে স মিল (করাতকল) করে ৩৫ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু তাঁর ওই জমিসহ খাট্টা শাহাপুর মৌজার ৩৫ শতক জমি সরকারি গেজেটে ভুলক্রমে পরিত্যক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দলিল সংশোধন ও ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে ২০০৩ সালে নওগাঁ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন আকবর আলী। আদালত সেই মামলার শুনানি নিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ জারি করেন। মামলাটি এখনো চলছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ওই জমিতে ভূমি কার্যালয় নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করলে আকবর আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। আদালত চলতি বছরের ৯ মার্চ বিবদমান জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে আদেশ দেন। কিন্তু বিবাদীরা চার সপ্তাহ পার হলেও সেই রুলের জবাব না দিয়ে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভূমি অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
আকবর আলী বলেন, ‘এই নির্মাণকাজের ফলে আমি অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হব। আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তিতে কীভাবে একটি সরকারি অফিস নির্মাণ করা হয়, তা আমার বোধগম্য নয়। এটা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং আদালতের রায়ের অবমাননার শামিল। আমি নির্মাণকাজ বন্ধ ও এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সুবিচার কামনা করছি।’

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই জমি অনেক আগেই খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। ওই জমির দাবিদার যে ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে একাধিকবার ভূমি অফিসে আসতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি আসেননি। এ ছাড়া হাইকোর্টে যে রুল জারি হয়েছে, সেটার জবাব দেওয়া হয়েছে। ওই জমি নিষ্কণ্টক। যথাযথ আইন মেনেই ভূমি অফিস করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন