১৫ বছর পর নওগাঁ বিএনপির সম্মেলন আগামীকাল, চার পদে লড়ছেন ২০ নেতা
১৫ বছর পর নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার শহরের বালুডাঙ্গা এলাকার একটি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুটি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদের জন্য মোট ২০ জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১টি উপজেলা ও তিনটি পৌর কমিটির ১ হাজার ৪১৪ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সম্মেলন ঘিরে শহরের বালুডাঙ্গা এলাকা প্রার্থীদের ছবিসংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ভরে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। অতিথি হিসেবে থাকছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু। সম্মেলন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে।
সম্মেলন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নওগাঁ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, সভাপতি পদে আটজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের দুটি পদের জন্য আটজন মনোনয়নপত্র তুলেছেন। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন সফল করতে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (ধলু), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক (নান্নু), জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাছান, নওগাঁ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুস শুকুর, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এস এম মামুনুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এ বি এম আমিনুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য লড়ছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্যসচিব বায়েজিদ হোসেন (পলাশ), জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রহমান (রিপন), শহিদুল ইসলাম (টুকু) ও আমিনুল ইসলাম (বেলাল)। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকের দুটি পদের জন্য মনোনয়ন তুলেছেন শফিউল আজম, নূর-ই আলম, ফরিদুজ্জামান, খায়রুল আলম, শবনম মোস্তারী, সুলতান মামুনুর রশিদ, কামরুজ্জামান ও জহুরুল হক।
সর্বশেষ ২০১০ সালে নওগাঁ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে সামসুজ্জোহা খান সভাপতি, জাহিদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং মামুনুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর সম্মেলনের মাধ্যমে আর কোনো কমিটি গঠন হয়নি। সর্বশেষ ২০২২ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।
নওগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয় ও মোড়ে মোড়ে সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছে। সমঝোতা করে কমিটি করতে পারলে ভালো হতো। তবে যেহেতু সমঝোতা করা যায়নি, ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে। এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা থাকা ভালো।
সভাপতি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আমি ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমি আশাবাদী কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করবেন।’
আরেক সভাপতি প্রার্থী নজমুল হক বলেন, ‘বিএনপি যে একটি গণতান্ত্রিক দল, এই নির্বাচনই তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রতিকূল পরিবেশেও আমি তিনবার নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। সব সময় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সভাপতি প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনে হার–জিত মেনেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আশা করি, জয়ী–পরাজিত সবাইকে নিয়েই চলতে হবে।’