গণসদন হলটি মুন্সিগঞ্জ শহরের সদর থানার পশ্চিম পাশে। স্বাধীনতার আগে হলটি প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুন্সিগঞ্জ শহর উন্নয়ন কমিটি ১৯৭৮-৭৯ সালে সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য হলের সংস্কারকাজ করে। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘গণসদন নাট্যমঞ্চ’ নাম দিয়ে হলটির উদ্বোধন করেন।

১৯৯৮ সালে সর্বশেষ সংস্কার করা হয় গণসদন হলের। ২০০৭ সালে এক রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গণসদনে। পুড়ে যায় হলের অনেক কিছু। এর পরই থেমে যায় নাট্যকর্মীদের আনাগোনা। বন্ধ হয়ে যায় নাটক মঞ্চস্থ করাসহ সব সাংস্কৃতিক আয়োজন।

সরজমিনে দেখা যায়, হলটির প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ভাঙা গাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। হলের দেয়ালের অংশ খসে পড়ছে। দেয়াল, প্রধান ফটক ও গাড়িগুলোতে ঘাস, লতা-পাতা গজিয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়, হলের উপরের ছাদ খোলা। মঞ্চ থেকে শুরু করে সব কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। হল কক্ষের মেঝেতে পানি জমে আছে। সেখানে আশপাশের বাড়ির ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সব মিলিয়ে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে এক সময়কার জাঁকজমকপূর্ণ হলটির।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসূল বলেন, ‘গণসদন হলটির বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। এটি সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মুন্সিগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুজন হায়দার বলেন, অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে গণসদন হলটি এখন জরাজীর্ণ ধংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। গণসদন হলকে পুনঃসংস্কার করে আধুনিক মিলনায়তন করার দাবি দীর্ঘ দিনের। অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।