default-image

রিক্তা কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ ইসতিয়াক রাব্বি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে।

পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাব্বি ও রিক্তার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন ধরমপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ চলছিল। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের ধরমপুর পূর্বপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রিক্তা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলে মতিহার থানায় মামলা করেছেন নিহত রিক্তার বাবা লিয়াকত জোয়ার্দার। পুলিশ অভিযুক্ত আবদুল্লাহ ইসতিয়াক রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত রিক্তার বাবা লিয়াকত জোয়ার্দার বলেন, ‘মা আমার গত চার–পাঁচ মাস কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলত না। সব সময় মন খারাপ করে থাকত। কি যে হয়েছিল, ও জানে আর আল্লাহ জানে। তবে এ কথা সত্যি যে রাব্বি আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে। থানায় মামলা করেছি। সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নিহত রিক্তার দুই সহপাঠী মুজাহিদুল ইসলাম ও আহসান হাবীব লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে কুষ্টিয়ায় আসেন। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, রিক্তা অত্যন্ত ভদ্র মেয়ে ছিলেন। শুক্রবার মধ্যরাতে খবর আসে, রিক্তা আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত রিক্তার ভাই এনামুল হক বলেন, তাঁরা দুজন দুজনকে পছন্দ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর দুজনের মধ্যে নানা বিষয়ে সন্দেহের দানা বাঁধে। এর জেরেই রাব্বি তাঁর বোনকে মারধর করে হত্যা করেছেন। রিক্তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁরা এই ঘটনার বিচার চান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন