হাফিজুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জহিরুল হক, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, পুলিশের গুলিতেই নয়ন নিহত হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে মিছিলের শেষ দিকে বিএনপি, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সেখানে মিছিলের পেছন দিক থেকে পুলিশের এক কনস্টেবল এগিয়ে এসে গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নয়ন।

নয়ন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবচর গ্রামের রহমত উল্লাহর বড় ছেলে। তিনি সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ও চরশিবপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি বিপণিবিতানে কাজ করতেন নয়ন। তিনি স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী ছেলেসন্তান রেখে গেছেন।

এদিকে নয়ন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা না হলেও শনিবার রাতে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞতানামা ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা করেছে পুলিশ।

নয়নের বড় মামা বেদন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে চলে গেছে। দল মামলার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার সঙ্গে আমরা থাকব। এর বাইরে বেশি কিছু জানতে চাইবেন না। কারণ, আমরা এখনো নয়নের শোকই কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির আইনজীবীরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ তো আর মামলা নেবে না। আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।