অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের উদ্দেশে বলেন, ‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব।’
আজ বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রীর মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগদানের আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের কল্যাণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সভায় সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতা কমিটি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কমিটি, জরুরি বিভাগ কমিটি, ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ কমিটি, খাদ্য কমিটি, দালাল প্রতিরোধ ও অ্যাম্বুলেন্স শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকি কমিটি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আমিন উর রশিদ ওই দিন কমিটির সদস্যদের নিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও শৌচাগারগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
মন্ত্রী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহানকে ডেকে শৌচাগারগুলোর এমন অবস্থার কারণ জানতে চান। জবাবে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের দাগ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব এই মুহূর্তে। যদি ক্লিন হয়, তাহলে আমি আপনাকে প্রশ্ন করব—কেন আপনাদের এই অবস্থা? আই ওয়ান্ট টু ক্লিন রাইট নাও।’
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আপনি তো ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করছেন। ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। এসব বিষয়ে তো আপনার নজর রাখার কথা। কিন্তু আমার কাছে যতটুকু রিপোর্ট আছে, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বাথরুম আপনাকে আমি নিজে দেখালাম। এগুলোর মধ্যে কোনো বাথরুম ব্যবহার করার উপযোগী নয়। এটার জন্য তো কিছু দরকার নাই, শুধু ক্লিন করলেই রোগীরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।’
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ও রোগীদের সেবার মান নিয়ে আলোচনা করেন আমিন উর রশিদ। সভায় তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে একটু সময় দেন। শিগগিরই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে ইনশা আল্লাহ। ক্রমান্বয়ে হাসপাতালের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’
আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, দালালমুক্ত ও মানবিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই। মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।
এ সময় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের কল্যাণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সভায় সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতা কমিটি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কমিটি, জরুরি বিভাগ কমিটি, ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ কমিটি, খাদ্য কমিটি, দালাল প্রতিরোধ ও অ্যাম্বুলেন্স শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকি কমিটি।
সভায় এসব উপকমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সদস্যদের বুঝিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ওপর অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাঁরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে এর প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও পড়ে।
আমিন উর রশিদ আরও বলেন, ‘আজ আমরা যে কমিটিগুলো গঠন করেছি, এর উদ্দেশ্য শুধু দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া নয়। আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, দালালমুক্ত ও মানবিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই। মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।’
এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।