ট্রেন কাছাকাছি চলে এলেও লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর থেকে যানবাহনের জটলা সরাতে পারছিলেন না গেটম্যান। পরে যোগ দেন একজন ট্রাফিক পুলিশ। ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রমের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো রকমে যানবাহনগুলো সরানো গেল। কিন্তু ট্রেন কাছাকাছি চলে আসার পরও অনেক পথচারী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছিল। এভাবেই যুদ্ধ করে গেটম্যান প্রতিদিন ট্রেন পারাপার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম দিক দিয়ে দুটি লাইন চলে গেছে। একটি সরিষাবাড়ী, অন্যটি দেওয়ানগঞ্জের দিকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ রেলপথ দুটি দিয়ে প্রতিদিন ১২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম পাশেই গেটপাড় লেভেল ক্রসিং। এলাকাটিতে সব সময় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক আর মানুষের জটলা লেগেই থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ ক্রসিংয়ে রেলওয়ে প্রতিবন্ধক নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে ওই লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক নেই। সেখানে ছয়জন গেটম্যান থাকার কথা। কিন্তু কর্মরত আছেন পাঁচজন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দুজন, বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দুজন ও রাত ১০টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত একজন গেটম্যান দায়িত্ব পালন করেন।

গেটম্যান সঞ্জিত বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা, একসময় প্রধান সড়কটি ছিল সরু। তখন একটি প্রতিবন্ধকও ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে যানজট নিরসনে এই এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওভারপাস বানাতে গিয়ে সড়ক প্রশস্ত হয়। এ জন্য আগের প্রতিবন্ধক এখন কাজে আসে না। ফলে ২৪ ঘণ্টা যান চলাচল করায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে যানজট লেগেই থাকে। ট্রেন আসার সময় যানবাহন আটকাতে অনেক হিমশিম খেতে হয়।

কয়েকজন ইজিবাইকচালক বলেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় ট্রেন আসে। ট্রেন খুব কাছে চলে আসার পরও লাইনের ওপর দিয়ে যানবাহন পার হতে থাকে। গেটম্যান একাই মানুষ আটকাতে দৌড়ঝাঁপ করতে থাকেন। যেকোনো সময় এ এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. আছাদ উজ জামান বলেন, ‘ওই লেভেল ক্রসিং নিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকতে হয়। কখন জানি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। লেভেল ক্রসিংটি নিয়ন্ত্রণ করতে দায়িত্বরত গেটম্যানদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। সম্প্রতি দুর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। তার কোনো অগ্রগতি নেই।’

জামালপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. আবু সাঈদ হাসান বলেন, গেটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ হচ্ছে। ফলে আগের প্রতিবন্ধকটি কাজে আসছে না। লেভেল ক্রসিংটি যে এখন ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা উল্লেখ করে নতুন করে একটি প্রতিবন্ধক নির্মাণের প্রকল্প রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন