তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী এক লঞ্চের মালিক প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে লঞ্চের যাত্রী অনেকটাই কমে গেছে। তবে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার—এই তিন দিনে বেশ কিছু যাত্রী পাওয়া যায়। লঞ্চ একবারে খালি যায় না। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির কতিপয় নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে দুই দিন ধরে ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠি, ভান্ডারিয়া, আমতলীসহ কয়েকটি রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।

আজ বেলা তিনটার পর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, হাতিয়া, মনপুরা, ঝালকাঠি, ভান্ডারিয়া, হুলারহাট, আমতলীসহ বেশ কয়েকটি রুটে যাওয়ার জন্য নদীপথের যাত্রীরা টার্মিনালের পন্টুন ও লঞ্চে বসে আছেন। বিকেল চারটার পর থেকে বরিশালগামী এমভি পারাবত-১২ লঞ্চের ডেকে বেশ কিছু যাত্রীকে বসে থাকতে দেখা যায়।

বরিশালগামী এমভি পারাবত-১২ লঞ্চের যাত্রী রুকসানা বেগম বলেন, বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল সদরঘাট এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখেন লঞ্চ চলাচল বন্ধ। আজ থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে বলে আবার এসেছেন। রুকসানা বেগম আরও বলেন, ‘এভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করায় আমার মতো অনেক যাত্রীর হয়রানি হতে হয়েছে। এটা ঠিক নয়।’

এমভি পারাবত-১২ লঞ্চের কর্মচারী মিজানুর ইসলাম বলেন, আজ রাত সাড়ে আটটার পর লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। দুপুরের পর থেকে বেশ কিছু যাত্রী লঞ্চে চলে এসেছেন। গতকাল লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফিরে গিয়েছিল।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার ঢাকা নদীবন্দরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী সালাউদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। এই তিন দিনে বরিশাল রুটে যাওয়ার নির্ধারিত লঞ্চ পন্টুনে নোঙর করে রাখা হয়। আশানুরূপ যাত্রী হলে লঞ্চ ছাড়ে, তা না হলে লঞ্চ ছাড়া হয় না।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. শহিদউল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চমালিকেরা জানিয়েছেন, যাত্রী না হওয়ার কারণে তাঁরা গতকাল বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তাই গতকাল বরিশাল, আমতলী, ভান্ডারিয়া ও ঝালকাঠি রুটে ঢাকা নদীবন্দর থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। আজ বরিশাল রুটে চলাচলের জন্য চারটি লঞ্চ টার্মিনালে অবস্থান করছে।