কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় পৌর কৃষক লীগের সভাপতি মেসবাহুল হক দলবল নিয়ে পত্রিকা কার্যালয়ে এসে চড়াও হন। তাঁকে (কামাল) না পেয়ে গালিগালাজ করে চলে যান। পরে মুঠোফোনে পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমান এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফ জামান ওরফে আনন্দের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে শাসান। পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীকে মারধর ও পত্রিকা কার্যালয়ে হামলার হুমকি দেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে পত্রিকা কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের যোগসূত্র আছে কি না, সেটা পুলিশকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার পত্রিকা কার্যালয়ে গিয়ে শাসানোর বিষয়টি স্বীকার করে মেসবাহুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি সম্পাদকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। তবে পত্রিকা অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার কোনো যোগসূত্র নেই। এমনকি আমার কোনো অনুসারীও যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তার দায়ও আমি নিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, তৃতীয় পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ নিয়ে কাউকে তিনি হুমকি দিতে বলেননি। তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি এমনটা করে থাকেন, সেই দায় তাঁর নয়। সেই দায় হুমকিদাতার। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ছাত্রলীগ নেতা সাইফ জামান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান বলেন, গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। দুষ্কৃতকারীরা ভীতি ছড়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা সাতটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে জরুরি সভা ডেকেছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল হুদা। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।