ফেনীতে হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, কাদেরসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

শহীদ মাহবুবুল হাসান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ফেনী জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানছবি : প্রথম আলো।

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মাহবুবুল হাসান হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আওয়ামী লীগের ২২১ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।

গত বছর ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান। তিনি সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারি বাড়ির মৃত নোমান হাসানের ছেলে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মাহবুবুলের বড় ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ৫০০ জনকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ৩০ জুলাই পর্যন্ত এজাহারনামীয় ১২ জন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, মাহবুবুল হাসান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২২১ আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে উঠে আসা নাম ও তদন্তে ঘটনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ছাগলনাইয়া সার্কেল) তসলিম হোসেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়দ মোমিদ রায়হান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছুজ্জামান প্রমুখ।

শহীদ মাহবুবুল হাসান
ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম আছে তাঁরা হলেন—ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির, পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ, সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।

জানতে চাইলে মামলার বাদী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যায় জড়িত সবার শাস্তি চান। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিরা বিচারের আওতায় আসুক, এটাই তাঁর চাওয়া।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে ফেনীতে সাতজন শহীদ হন। এসব ঘটনায় ফেনীতে সাতটি হত্যা মামলা ১৫টি হত্যাচেষ্টার মামলা  হয়েছে। এসব মামলায় ২ হাজার ১৯৯ জন এজাহারভুক্ত আসামি, ৪ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন। এসব মামলায় অন্তত এক হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।