ভোটের ফল জালিয়াতির ৭ বছর পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনী ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগে ভোটের সাত বছর পর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নাম মো. আবু সোলাইমান। তিনি হাতিয়ার জাহাজমারা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মামলায় নির্বাচনে বিজয়ী নারী সদস্য শেফালী বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আরিফ আহম্মদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু সোলাইমান হাতিয়ার জাহাজমারা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি জাহাজমারা গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া অপর আসামি শেফালী বেগম বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি জিততে পারেননি। তিনি ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামের আবদুর রবের স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের চারুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংরক্ষিত আসনের সদস্য প্রার্থী শেফালী বেগম (হেলিকপ্টার) ৫০০ ভোট পেলেও তাঁকে অনৈতিক সুবিধা দিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু সোলাইমান ফলাফলে ঘষামাজা করে ৫৫০ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। এতে পাঁচ কেন্দ্রে ১২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নয়না বেগম (সূর্যমুখী ফুল)। তিনি ওই বছরই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
আদালত ওই মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের ১৫ মে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু সোলাইমানের জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করেন শেফালী বেগম। রায় বহাল রেখে জেলা জজ আদালত আপিল নিষ্পত্তি করেন।
রায়ে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদেশ দেন আদালত। এরপর রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ওই বছরই নয়না বেগম দুদকে একটি অভিযোগ দেন। এরপর দুদক দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এই মামলা করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বুড়িরচর ইউনিয়নের চারুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৯ ভোট পড়ে। এর মধ্যে শেফালী বেগম পেয়েছিলেন ৫০০ ভোট, নাছিমা আক্তার ১৮০, নয়না বেগম ২৩১ ভোট এবং বাতিল হয় ১৫৩ ভোট। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু সোলাইমান বাতিল ১৫৩ ভোটকে ১০৩ ভোট দেখিয়ে শেফালী বেগমকে ৫০০ ভোটের স্থলে ৫৫০ ভোট পেয়েছেন বলে ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে ওই ফলাফল বিবরণীতে কোনো প্রার্থী বা তাঁদের পক্ষে প্রতিনিধিদের (এজেন্ট) কারও স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে সাত বছর আগে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতির ঘটনায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আরিফ আহম্মদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন।
তিনি জানান, মামলার পর সেটি তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।