কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার তরুণী সন্তান প্রসব করেছিলেন গত শুক্রবার। সেদিনই হাসপাতাল থেকে নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যান ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের স্বজনসহ পরিচিত কয়েকজন। নবজাতককে উদ্ধার করে গতকাল রোববার রাতে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
মায়ের কাছ থেকে নবজাতককে জোর করে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের মা ও চাচা, চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন নার্স এবং নবজাতক কেনার সঙ্গে জড়িত একজন।
আজ সোমবার রাত আটটার দিকে প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, রোববার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করে। শিশুটি বর্তমানে মায়ের হেফাজতে রয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হয়তো নবজাতককে কারও কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নবজাতককে উদ্ধারের সময় এক শ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পও পাওয়া গেছে। সেখানে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতকককে অন্যত্র হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। এ কারণে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
অসুস্থ নানির চিকিৎসার জন্য ওই তরুণীর মা গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় যান। তখন নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি অভিযুক্ত যুবকের পরিবারকে জানানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তরুণীর পরিবার। তারা জানায়, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন তাঁরা।
নবজাতককে বিক্রির অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান। এ মামলায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার চৌদ্দগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। নবজাতকের পিতৃপরিচয় আড়াল করতে অভিযুক্ত তরুণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অন্যদের সহযোগিতায় জন্মের পরপরই নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্র বলছে, নবজাতককে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একজন নার্স, দুজন ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর নবজাতককে বিক্রি করার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুই মামলা, গ্রেপ্তার চার
ধর্ষণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় আজ সোমবার মামলা হয়েছে। এ মামলায় অভিযুক্ত যুবক, তাঁর মা ও চাচা এবং স্থানীয় এক মাতবরকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ভুক্তভোগী তরুণী।
অন্যদিকে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান। এ মামলায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ জনসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন। আজ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওসি প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।