নানা জটিলতায় গতি কম

কিছু স্থানে সীমানা জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে। এতে কিছু জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মহাসড়কের চারলেনের কাজ বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার কুষ্টিয়া শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়
ছবি: তৌহিদী হাসান

এক দফা সময় বাড়িয়েও কুষ্টিয়ায় দুটি মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি। জুলাই মাস পর্যন্ত এসব সড়কে কাজের অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ হয়েছে বলে দাবি করেছে সওজ। প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় সড়কগুলোর কিছু স্থান দিয়ে যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। আর কিছু স্থান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, কাজে ধীরগতি, মামলা ও সীমানাসংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছে না সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সড়কগুলোর বাকি কাজ শেষ করার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সেটা এখনো অনুমোদন হয়নি। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সওজ সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের প্রায় ৪১ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৫৪৩ কোটি টাকা। পাঁচটি গুচ্ছে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়।

এর মধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে কুষ্টিয়া শহরে বটতৈল এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা নির্মাণের কার্যাদেশ পায় জহিরুল লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কইভাবে এই সড়কের আরও ৬ কিলোমিটার কার্যাদেশ পায় রানা বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এই কাজের জন্য ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। একই সড়কের বটতৈল এলাকা থেকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর রেলগেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারে ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ পায় জহিরুল লিমিটেড। ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর কাজ শুরু হয়। শেষ করার কথা ছিল গত ৩১ জুলাই। এই পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৮২ ভাগ। এই ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় ৩০০ মিটার কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে আটকে আছে সড়কের কাজ।

সড়ক বিভাগ বলছে, জায়গাটি জেলা পরিষদের। জেলা পরিষদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। তার সব কিছু কাগজপত্র সংরক্ষণ করা আছে। উচ্চ আদালতে কয়েক দিন পর শুনানি হবে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত একটা সমাধান হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওই এলাকাতে কাজ বন্ধের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া–ঈশ্বরদী মহাসড়কে মজমপুর রেলগেট থেকে শহরের ত্রিমোহনী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কার্যাদেশ পেয়েছে স্পেকট্রা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি মাসে ৩১ আগস্ট কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে এই কাজের অগ্রগতি ৭৩ ভাগ।

এই এলাকাতে মহাসড়ক চওড়া করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা ও দায়রা জজের সরকারি বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর। নালা নির্মাণ এই সীমানাপ্রাচীরে গিয়ে আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। নালা ও সড়কের কাজে জটিলতা বাড়ছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জমিটির মালিকানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সওজ বলছে, পুলিশ লাইনসের সীমানার মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৫ ফুট জায়গা পেলে চার লেন প্রকল্প নকশা অনুযায়ী মহাসড়ক হবে। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানে সমঝোতায় একটা সমাধানে আসার জন্য জোর চেষ্টা চলছে।

এই সড়কের ত্রিমহোনী এলাকা থেকে ভেড়ামারার বারমাইল পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের কার্যাদেশ পায় এমএম বিল্ডার্স লিমিটেড। এই সড়কের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর। শেষ করার কথা রয়েছে চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর।

পাঁচটি গুচ্ছের মধ্যে এই অংশের কাজ সবচেয়ে কম অগ্রগতি হয়েছে। জুলাই পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৩৫ ভাগ। যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক রাহাত হোসেন বলেন, কিছু জটিলতার কারণে চলতি বছরের পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। এখন কাজ আবার শুরু হয়ছে।

এ বিষয়ে সওজের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম আজাদ খান বলেন, চার লেন প্রকল্পের জটিলতা নিরসনে তিনি জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।