এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের হরিনারায়ণপুর এলাকায় আরও এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে গলায় আঁচড় দেয় বখাটেরা। ২৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের হাটখোলা এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফেরার পথে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ওই দুই ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

আজ হামলার শিকার স্কুলছাত্রীর মা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিদিন নিজে বিদ্যালয় ও প্রাইভেট শিক্ষকের বাড়িতে মেয়েকে আনা-নেওয়া করেন। আজ মেয়ের ছবি প্রিন্ট করানোর জন্য শহরের একটি দোকানে গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর তাঁর মেয়ে বছিরার দোকান এলাকায় প্রাইভেট পড়ে। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পথে মেয়েকে একা পেয়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বখাটে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়ের বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। হামলাকারী ব্যক্তিদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সে তাদের কাউকে চিনতে পারেনি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা আরও বলেন, ঘটনার পর মেয়ের শিক্ষকেরা ফোন করে তাঁকে ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্রীর বাঁ হাতে ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতে আনুমানিক আড়াই ইঞ্চি লম্বা অংশ কেটে গেছে। হাসপাতালে আনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যাবে বলে আশা করা যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। তাঁকে কেউ বিষয়টি জানাননি। মাত্রই শুনেছেন। পরে বলেন, তিনি অসুস্থ। শিক্ষক পাঠিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজ নেবেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, থানা থেকে একজন পরিদর্শককে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগের দুই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে গ্রেপ্তার বা শনাক্ত করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাঁরা কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। এ বিষয়ে তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।