প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বৈরাচারের দোসর—ফেসবুক পোস্টে বিএনপির সংসদ সদস্য
প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো ‘স্বৈরাচারের দোসর’ রয়েছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ পোস্ট দেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে বসে আছে। তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলা এবং নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এ পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘গুটিকয়েক ঠিকাদারের গাফিলতি, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, পর্যাপ্ত আর্থিক সংগতি ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও এক সাথে একাধিক কাজ হাতে নেওয়া—আর তার সাথে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও তদারকির অভাব! যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। মারাত্মক বিড়ম্বনা আর তীব্র যানজটে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।’
ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য লেখেন, ‘৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সভায় মাননীয় পানিসম্পদমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভরা মজলিশে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অঙ্গীকার করেছিলেন—সাত দিনের মধ্যে রামগঞ্জের জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তার কাজ শেষ করবেন। ফলাফলের নমুনা তো এখন সবাই দেখতেই পাচ্ছেন!’
শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘সরকার পরিচালনায় এখন আরও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে। পতিত স্বৈরাচারের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনকে গতিশীল করতে হবে। সর্বত্র সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’
শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’