সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক ও একপেশে বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।
মোর্শেদুল আলম, ছাত্রলীগ নেতা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্য বলেন, আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে দুজন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশ প্রতিবেদন পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষকেরা বলেন, গত ৩০ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ব্যাপক ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বিধান চন্দ্র হালদার মুঠোফোনে বলেন, তাঁদের প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটি গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর থেকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, হল সুপারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মোট ৮টি সভা করেছে তদন্ত কমিটি। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে অপরাধের ধরন দেখে-বুঝে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আপিল করলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপিত হবে। রিজেন্ট বোর্ড সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা ও শেখ রাসেল হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদুল আলম। তিনি বলেন, যে বিষয়টি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, সেটার বিষয়ে তদন্ত কমিটি কোনো যাচাই–বাছাই করেনি। সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক ও একপেশে বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। যাঁরা শুরুতে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গতকাল বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। যদি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সহনীয় পর্যায়ে না দেখা হয়, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন