বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা এডিটরস ফোরামের সভাপতি মজিবুল শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘেরাও কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন, কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা–কর্মীরাসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক কালেক্টরেট চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের সামনে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা প্রশাসনবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওঠার প্রধান ফটকের সামনে বসে স্লোগান দেন তাঁরা।

কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসান আলীর সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া এডিটরস ফোরামের সভাপতি মজিবুল শেখ, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি নুরুন্নবী, গোলাম মওলা, কোষাধ্যক্ষ লিটন উজ জামান, নির্বাহী সদস্য আবদুর রাজ্জাক, সাংবাদিক সোহেল রানা, নুর আলম, শরীফ বিশ্বাস প্রমুখ।

সাংবাদিক হাসিবুর হত্যার রহস্য উন্মোচন করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। হাসিবুর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার বিষয়ে পুলিশের নির্লিপ্ত ভূমিকারও সমালোচনা করেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা বলেন, এ হত্যার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা জানান দিচ্ছে। এতে জেলার সব সাংবাদিকের জীবন শঙ্কার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিরাজুল ইসলাম। তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সাংবাদিকেরা। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি পাঠানোর কথা জানান তাঁরা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কুষ্টিয়াতে একজন সাংবাদিককে হত্যার যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের দাবি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদনটি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালায় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে সাংবাদিকদের।

৩ জুলাই রাত নয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড়ে পত্রিকা অফিসে ছিলেন হাসিবুর। তখন মুঠোফোনে একটি কল পেয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যান। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তাঁর পরিবার।

এর চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণাধীন গোলাম কিবরিয়া সেতুর নিচে গড়াই নদ থেকে হাসিবুরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে হাসিবুর রহমানের চাচা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন