কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের তিন বগি লাইনচ্যুত, আতঙ্কিত যাত্রীরা

কুমিল্লার লাকসামে নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আজগরা বাজারসংলগ্ন এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লাকসামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের আজগরা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধারকাজের জন্য লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়েছে।

এ দুর্ঘটনার পর বেসরকারি ট্রেনটির যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যাত্রীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটিতে প্রায় ১০টি বগি ছিল। এর মধ্যে ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে আরেকটি রেললাইন দিয়ে রেলপথটিতে অন্য ট্রেনের চলাচল অব্যাহত আছে।

ট্রেনটির যাত্রী আবুল কালাম ফেনী থেকে লাকসামে আসছিলেন। তিনি বলেন, লাকসামের নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

লাকসামের নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়
ছবি: প্রথম আলো

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাওটি স্টেশনের উত্তর পাশে এসব বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রেললাইনে কাজ চলার সময় লাইন খোলা থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কোনো কাজ চলছিল কি না, জানতে চাইলে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ কোনো কাজ করলে আগে ও পরের দুই স্টেশনকে জানায়। তবে এ ধরনের কাজের বিষয়ে তাঁরা কোনো তথ্য পাননি।

দুর্ঘটনার পর থেকে আপলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তবে ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল করছে। লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দ্রুত উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ওমর ফারুক ভূঁইয়া, লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার

দুর্ঘটনার পর থেকে আপলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে জানিয়ে ওই স্টেশনমাস্টার বলেন, তবে ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল করছে। লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দ্রুত উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের (পূর্বাঞ্চল) অধীন ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে দুর্ঘটনার সময় রেললাইনে কোনো কাজ চলছিল কি না এবং কাজের জন্য লাইন খোলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।