আখের শরবত বিক্রি করে সংসার চলে না শওকতের
বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আখের শরবত বিক্রির জন্য আখমাড়াই মেশিন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. শওকত হোসেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষার পর চারজন এসে চার গ্লাস শরবত কিনলেন। তিনি প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আখের শরবত বিক্রি করেন।
শওকতের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামে। ১৩ বছর ধরে তিনি ঢাকায় আখের শরবত বিক্রি করতেন। করোনা মহামারির কারণে শওকত ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এখন তিনি বরগুনা শহরে আখের শরবত বিক্রি করছেন।
শওকতের ভাষ্য, আগের মতো বেচাকেনা হয় না। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পর বেচাকেনা এখন আরও কমে গেছে। মানুষ প্রতিদিনের খাবার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, আখের শরবত পানে তো অনীহা দেখাবেনই। এখন সংসারের খরচ বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। ফলে তাঁর চার সদস্যের সংসার চলতে চাইছে না।
শওকত হোসেন বলেন, সংসারের খাবার জোগাতে খুব কষ্ট হয়। একটা সওদা বাড়ি নিলে আর একটির অভাব দেখা দেয়। বাজার সওদা ঠিকমতো করা যায় না। টেনেটুনে সংসার চালাতে হয়। এভাবে আর চলা যায় না। একজনের আয়ে চারজনের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। দুই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ এই আখের শরবত বিক্রি করে জোগাতে হয়। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার শরবত বিক্রি হয়।
বাজারে মাছ ও মাংসের অনেক দাম উল্লেখ করে শওকত হোসেন বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অল্প টাকার মধ্যে চাষের পাঙাশই ভরসা। শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নাই। মাংস আমাদের ভাগ্যে নেই।’ সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে, তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি।