আজ সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ওই রেললাইন ধরে হাঁটার সময় সাজুর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ১২টার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। মা, বোনসহ স্বজনেরা ফাঁড়িতে এসে সাজুর লাশ শনাক্ত করেন।

নিহত সাজুর বড় বোন সাথী আক্তার বলেন, গতকাল দিনভর অটোরিকশা চালিয়ে সন্ধ্যায় হাসনাবাদের বাড়িতে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খান সাজু। পরে মেথিকান্দার তুলাতুলি গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। আজ সকালে রেললাইনে তাঁর লাশ পড়ে থাকার খবর পান তাঁরা। তিনি আরও বলেন, ‘সাজু নাকি স্ত্রীকে নির্যাতন করে, এমন অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। আজ সকালে তার শ্বশুরবাড়ির এক প্রতিবেশী আমাকে কল করে জানান, গতকাল রাতেই নাকি সাজু ওই বাড়ি থেকে রাগারাগি করে বেরিয়ে এসেছে। আমাদের ধারণা, তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ রেললাইনে ফেলে রেখেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন, যাতে বলা যায়, ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’

নিহত সাজুর শাশুড়ি রেনু বেগম বলেন, ‘গতকাল রাতে সাজু আমাদের বাড়িতে এসেছিল। পরে টাকাপয়সা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাগারাগির একপর্যায়ে সে খাদিজার গলা চেপে ধরে। এ সময় খাদিজা চিৎকার দিলে আমরা এগিয়ে গিয়ে তাকে আটকাই। পরে তাকে চলে যেতে বলা হলে রাত ১০টার দিকে সে চলে যায়। এরপর কী হয়েছে, আমরা কিছুই জানি না।’

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন বলেন, তরুণের লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে জানা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন