যারা অন্যায় করেনি, তাদের শাস্তি হতে দেব না: আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পেরেছিলেন? ভোট দিতে পারেননি। সে সময় আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। এখন একটা সুযোগ এসেছে।’
আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোল্টিহরি বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছেন ভারতে। তিনি ভারতে গেছেন ভালো করেছেন। এলাকার সমর্থক–কর্মীদের বিপদে ফেলে গেছেন কেন? আমরা কর্মী-সমর্থকদের জানাতে চাই, আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।’
দুপুরে মির্জা ফখরুল নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভার উদ্দেশে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। বিকেলে তিনি সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে গণসংযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ ছাড়া ১১ মাইল, বৈরাগীহাট, পয়সাফেলা ও মুন্সিরহাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করে ধানের শীষে ভোট চান।
শোল্টিহরি বাজারে এলাকাবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কিন্তু আপনাদেরই ছেলে, আপনাদেরই ভাই। এই এলাকা থেকে নির্বাচন করে আমি কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি। যখন হেরেছি, তখন কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আমার বয়স ৭৮ হয়ে গেছে। কিন্তু মনের দিক থেকে এখনো তরুণ আছি। আমি বিশ্বাস করি, এখনো অনেক কাজ করতে পারব। সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারব।’
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মুসলমান–হিন্দু ভাইবোনদের অনুরোধ করব, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করি। এই উন্নয়ন কেবল ধানের শীষ করতে পারবে, আর কেউ করতে পারবে না। আজ কিছু লোক আমাদের ভাগ করতে চায়। আমরা কি বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা আলাদা বাস করি? এলাকাতে একসঙ্গে হিন্দু-মুসলমানরা থাকেন। একসঙ্গে চলাফেরা করেন। আমাদের পরবে হিন্দুরা আসেন, হিন্দুদের পূজায় আমরা যাই। আমরা এই অবস্থাটা ধরে রাখতে চাই। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন একটা দল আসছে, নাম কী? জামায়াত। তারা কি এর আগে ক্ষমতায় এসেছিল? কারও জন্য কোনো কাজ করেছে? আমরাই কাজ করেছি। বিএনপিই পরীক্ষিত দল। আরও কাজ করতে চাই। নতুন স্কুল, রাস্তাঘাট করতে চাই, হাসপাতাল করতে চাই। ছেলেমেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই।’