দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির কফিনে অতিরিক্ত ‘পা’, পরিবারের ভোগান্তি

বালুবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত মো. সেন্টুর মরদেহ নাটোরের বাগাতিপাড়ার সালাইনগর গ্রামে পৌঁছালে শোকাহত হয়ে পড়েন সেখানকার বাসিন্দারাছবি: প্রথম আলো

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির কফিনে পাওয়া অতিরিক্ত ‘পা’–এর মালিকানা নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। অতিরিক্ত ‘পা’ নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে নিহত ব্যক্তির পরিবার; বিপাকে পড়েছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া বাজারে বালুবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে মো. সেন্টুসহ (৪৫) পাঁচজন নিহত হন। পুলিশের পাঠানো সেন্টুর কফিনে পরিবারের লোকজন তিনটি বিচ্ছিন্ন পা পান। সন্দেহ থাকলেও দুটি পাসহ তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পায়ের মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি নাটোর জেলায়।

আরও পড়ুন

নিহত মো. সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পাঠানো সেন্টুর কফিনে পাওয়া অতিরিক্ত পা–টা রেখে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। বিষয়টি পুঠিয়া থানার পুলিশকে জানালে তারা জানায়, ওই পা–টা দুর্ঘটনায় আহত রায়হানের। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রায়হানের ভাতিজা অনিক হোসেন গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে জানান, পা–টা নেওয়ার জন্য সেন্টুর বাড়ি বাগাতিপাড়ার সালকোনা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। সন্ধ্যায় তিনি নিহত সেন্টুর বাড়িতে এসে রেখে দেওয়া পা–টা দেখে বিস্মিত হন। তিনি জানান, ওই পা তাঁর চাচার নয়। তিনি ফিরে যাওয়ার পর গতকাল রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রায়হানের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সেন্টুর পরিবার পা–টা নিয়ে বেকায়দায় পড়ে। তারা স্থানীয় পুলিশকে জানালে পুলিশ পুঠিয়া থানায় যোগাযোগ করতে বলে। সন্ধ্যায় পুঠিয়া থানা থেকে ওই ‘পা’ পবা হাইওয়ে থানায় জমা দিতে বলে। নিরুপায় হয়ে সেন্টুর স্বজনেরা গাড়ি ভাড়া করে পা–টা নিয়ে পবা হাইওয়ে থানায় হাজির হন। সেখানে পা–টা রেখে তাঁরা ফিরে আসেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হতাহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করেন। হতাহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁরা মরদেহ কফিনে ঢোকানোর সময় কিছু ত্রুটি–বিচ্যুতি হয়েছে। পরে এ ব্যাপারে পবা হাইওয়ে থানায় মামলা হওয়ায় সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তারা হতাহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।

পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘নিহত সেন্টুর স্বজনেরা ব্যাগে করে মানুষের একটি পা থানায় রেখে গেছেন। পরে পুঠিয়ার আহত রায়হান মারা গেলে তাঁর লোকজন এসে পা–টা নিয়ে গেছেন। এরপর কী হয়েছে, তা বলতে পারব না।’
নিহত রায়হানের ভাগনে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাঁর মামা রায়হানকে গতকাল রাত ১০টার দিকে দাফন করা হয়েছে। এ সময় দুর্ঘটনায় তাঁর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দুটি পা ও একটি হাত দাফন করা হয়েছে কি না, তা বলতে পারবেন না।