রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটায় নেওয়া হয়েছে ৬৭ জন শিক্ষার্থীকে। পোষ্য কোটায় পাস নম্বর ন্যূনতম ৪০ হলেও এ বছর ৩০ নম্বর পেলেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খেলোয়াড় কোটায় কয়েক শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম ৩০ নম্বরের নিচেও ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ, সদস্যসচিব আমানুল্লাহ আমান, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহ, আজাদ রহমান প্রমুখ।

আমানুল্লাহ আমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধার শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অথচ অনেকে অকৃতকার্য হয়েও ভর্তি হতে পারছেন পোষ্য কোটার বদৌলতে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এটা অন্যায়।

দর্শন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহ বলেন, ৪০ নম্বরও না পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করা হচ্ছে পোষ্য কোটায়। পরে তাঁরাই একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী হবেন। এ পোষ্য কোটা অনৈতিক। এটা বাতিল করতে হবে।

নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা পারিবারিক গোয়ালঘরে পরিণত করেছে। অনেকেই ৬০ থেকে ৬৫ নম্বর পেয়ে ভর্তি হতে পারছেন না। অথচ কোটার কারণে ৩০ নম্বরের নিচে পেয়েও ভর্তি হওয়া যাচ্ছে। এটা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। অকৃতকার্য হওয়ার পরও যাঁদের পোষ্য কোটায় ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের ভর্তি বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সম্মেলনকক্ষে উপাচার্য গোলাম সাব্বির ওরফে সাত্তারের সভাপতিত্বে ভর্তি পরীক্ষার উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর পোষ্য কোটায় অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় সভায় ভর্তি পরীক্ষা উপকমিটির সিদ্ধান্তে পাস নম্বর শিথিল করে পোষ্য কোটাভুক্তদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সভায় পরবর্তী সময়ে এ কোটায় ৪ শতাংশ আসন বরাদ্দের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ শিক্ষাবর্ষে তিনটি ইউনিটে কোটাসহ আসনসংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৬৪৬। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দ ছিল মোট আসনের ৫ শতাংশ। সে হিসাবে প্রতিবছর এই কোটায় ২০১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।