সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকালে ও বিকেলে বৃষ্টি হওয়ায় দিনভর বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম ছিল। জেলায় বিউবো ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় আট লাখ গ্রাহকের জন্য দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৬৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরবরাহ করা হয় ১৫৫ মেগাওয়াট। আর ঘাটতি ছিল ১১২ মেগাওয়াট।

সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, লোডশেডিংয়ের যে সূচি তাঁরা পেয়েছেন, সেটা ঠিক থাকছে না। এর বাইরেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। যদিও লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব কম। অনেক সময় দেখা গেছে, এক ঘণ্টার মধ্যে তিনবার লোডশেডিং হচ্ছে। কম স্থায়িত্বের লোডশেডিংয়ে ইলেকট্রিক লাইন ও ফ্যানে প্রভাব ফেলছে।

বিউবোর সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবদুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার দিনে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল ৮৬ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহ বিবেচনায় লোডশেডিংয়ের সূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে সরবরাহ কম থাকলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সূচির বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্যও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাটির জকিগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোমবার জকিগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে নিয়ম মেনেই লোডশেডিং হয়েছে। তবে সরবরাহ সব সময় ঠিক থাকে না। চাহিদা ও সরবরাহ ঠিক থাকলে লোডশেডিং করা হয় না।

জকিগঞ্জের হাইল ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ বলেন, লোডশেডিংয়ের সূচি অনুযায়ী, দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার কথা। কিন্তু এর বাইরে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। সূচির বাইরে লোডশেডিংয়ে অনেক সময় এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি বলেন, দিনে গরম বেশি থাকলে এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্ক মানুষের বেশি কষ্ট হচ্ছে।

বিউবো ১৩ ঘণ্টার লোডশেডিং সূচিতে পরিবর্তন

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক–তৃতীয়াংশ হওয়ায় বিউবো সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর আওতাধীন কিছু এলাকায় ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সূচি অনুযায়ী সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বিউবো-২-এর কিছু এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার কথা ছিল। তবে সেই সূচি পরিমার্জন করা হয়েছে বলে জানান বিউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই-আরেফিন।

শামস-ই-আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়া উত্তপ্ত থাকলে বিউবো-২-এর আওতায় ৩৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। গত রোববার সেই আবহাওয়ায় সরবরাহ করা হয়েছিল ১৩ মেগাওয়াট। সেভাবে তাঁরা সূচি তৈরি করেছিলেন। সোমবার বৃষ্টি থাকায় চাহিদা কমে দাঁড়ায় ৩৩ মেগাওয়াটে। এ ছাড়া সরবরাহ বাড়িয়ে ১৫ মেগাওয়াট করা হয়। এ জন্য সূচি পরিবর্তন করে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন