হাতকড়া
প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে জাহাঙ্গীর ফকির (৪০) নামের একজন হোটেল ব্যবস্থাপককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই আসামির নাম সাকিব গাজী।

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে বরিশালের মুলাদি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। সাকিব গাজী পটুয়াখালী শহরের ফটিকের খেয়াঘাট এলাকার সমতা সড়কের শাহীন গাজীর ছেলে।

শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম।

এ সময় তিনি জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাকিব গাজীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর উজিরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় মুলাদি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জাহাঙ্গীর ফকিরের বাড়ি পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবর্দী গ্রামে। তিনি পটুয়াখালী শহরের ফটিকের খেয়াঘাট এলাকায় আবাসিক হোটেল ‘শিকদার রেস্টহাউস’-এর ব্যবস্থাপক ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, ২ জুন সন্ধ্যায় স্থানীয় এক সন্ত্রাসী ওই আবাসিক হোটেলে এসে ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর ফকিরের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হলে ওই সন্ত্রাসী চলে যান। কিছু সময় পর আবার এসে জাহাঙ্গীরের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

পরে সহকর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে ৩ জুন ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুন রাতে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জামাল হোসেন ৭ জুন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাকিব গাজীকে প্রধান আসামি করে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনের আসামি করা হয়।

পটুয়াখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি সাকিব গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।