শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিং, সতর্ক পুলিশ

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নারী কর্মীরা পোস্টার টানিয়েছেনছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটিয়েছেন দলটির নেতা–কর্মীরা। সদর ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীদের পোস্টার টানাতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছে।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে, অটোরিকশার পেছনে ও বিদ্যুতের খুঁটিতে পোস্টার লাগানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতারা ওই ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

গতকাল শনিবার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর লঞ্চঘাট, সুরেশ্বর বাজার, সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেয়ালে, ঘড়িসার বাজার ও পণ্ডিতসার বাজারের বিভিন্ন স্থাপনার দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নারী কর্মী। এ সময় নারী কর্মীদের মাথায় হেলমেট পরা ছিল। পোস্টারগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের আহ্বান জানানো হয়। এতে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শরীয়তপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক শামীম ও নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান খালাসির ছবি দেখা যায়।

অন্যদিকে গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, আঙ্গারিয়া উচ্চবিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মোল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়।

বেশ কয়েক দিন ধরে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গত ২০ দিনে শরীয়তপুর শহরের অন্তত ছয়টি স্থানে তাঁরা মিছিল করেছেন। এর আগে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুরের পাঁচটি স্থানে মিছিল করেছিলেন তাঁরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিটি মিছিল ও পোস্টার লাগানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন। পুলিশের তৎপরতার কারণে তাঁরা কিছুটা গোপনে কর্মসূচি করছেন। গত ৭ দিনে তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মীকে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ আটক করেছে। এভাবে মামলা-হামলা ও আটক করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ কিছুটা নির্জন এলাকায় পোস্টার লাগিয়েছেন, মিছিল করেছেন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। গত সাত দিনে প্রচলিত আইনে দুটি মামলা হয়েছে। পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা যাতে কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে সতর্ক আছে পুলিশ।

চব্বিশের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি। তবে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিল, অল্প সময়ের জন্য সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি কর্মসূচির পর বিভিন্ন থানায় মামলাও হয়েছে।