নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে মমতাজ বেগমের ছেলে মো. আলমগীরের সঙ্গে রাশেদা বেগমের বিয়ে হয়। রাশেদার পৈতৃক বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নে। রাশেদা সম্পর্কে মমতাজ বেগমের আপন ভাতিজি।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ১৯ জুলাই নিহত মমতাজের মেয়ে আয়েশা বেগম বাদী হয়ে রাশেদা বেগম, তাঁর দুই ভাই অলী উল্লাহ, তারেক উল্লাহ এবং বাবা সৈয়দ নুরকে আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার রাশেদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে রামু থানা-পুলিশ। আদালতের বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, আজ শনিবার দুপুর থেকে রাশেদাকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পারিবারিক কলহের জের ধরে রাশেদা বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শাশুড়ি মমতাজকে হত্যা করেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তার অনুসন্ধান চলছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মাকে হারিয়ে শোকে পাথর মো. আলমগীর (৩২)। তিনি কক্সবাজার সৈকতের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। আলমগীর বলেন, স্ত্রী রাশেদা বেগমের সঙ্গে তাঁর মায়ের মনোমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে ১৬ জুলাই বিকেলে রাশেদা তাঁর মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরা করে বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের পাশে গর্ত করে পুঁতে ফেলেন। এ সময় ঘরে কেউ ছিল না।

১৬ জুলাই বিকেল থেকে মাকে বাড়িতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন জানিয়ে আলমগীর বলেন, স্ত্রী রাশেদার কাছে জানতে চাইলে তাঁর মা বাড়ি থেকে কোথাও চলে গেছেন বলে জানান। এরপর তিনি নিজের ফেসবুকে মায়ের ছবি দিয়ে সন্ধান চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতেও তিনি মায়ের খোঁজ পাননি। বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনার টিউবওয়েলের পাশে মাটি উঁচু দেখতে পান। পরে ওই স্থানে মাটি খুঁড়তেই মায়ের শাড়ি ও মৃতদেহ দেখেন। এরপর তিনি পুলিশে খবর দেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে উমখালী গ্রামে মমতাজ বেগমের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও পুত্রবধূ রাশেদার ফাঁসি দাবি করে মানববন্ধন করেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খোদেসতা বেগম রীনা, রামু প্রেসক্লাবের সভাপতি নিতীশ বড়ুয়া প্রমুখ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, চাঞ্চল্যকর মমতাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন