টাকা ধার দিতে রাজি না হওয়ায় বাড়িতে ঢুকে নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা: পুলিশ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় টাকা ধার দিতে রাজি না হওয়ায় ‘অতিথি সেজে’ বাড়িতে ঢুকে ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনাজ বেগমকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর গতকাল রোববার গ্রেপ্তার এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে একই উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে গত শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহানাজ বেগম (৭১) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার নারীর নাম সুলতানা বেগম (৪৭)। গতকাল রাতে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি একই উপজেলার কুপা গ্রামের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুলতানা বেগমকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋণের চাপে পড়ে তিনি ও তাঁর ছেলে নিহত শাহানাজ বেগমের কাছে টাকা ধার চাইতে যান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা দুজনে মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়িতে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার ও তাঁর ছোট মেয়ে ছিলেন। একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান তখন পাশের দাড়িদহ বাজারে নিজের ইলেকট্রনিকসের দোকানে ছিলেন।
সন্ধ্যার দিকে ‘মা-ছেলে’ পরিচয়ে দুজন ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁদের আপ্যায়নও করা হয়। একপর্যায়ে পুত্রবধূ নামাজ পড়তে নিজ ঘরে গেলে ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়। জিন্নাত আকতার নামাজ শেষে শাশুড়ির চিৎকার শুনে বের হতে গিয়ে দেখেন, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। তিনি চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দেখেন, শাহানাজ বেগমের রক্তমাখা দেহ খাটে পড়ে আছে। তাঁর মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল। এ সময় ওই নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা তরুণকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় শাহানাজ বেগমকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শাহানাজের ছেলে মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে গতকাল শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার সুলতানা বেগমকে ওই মামলায় দেখিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়ার আদালত পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার আগে বিচারকের খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা আছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার সুলতানা বেগম আগে শাহানাজ বেগমের মেয়ের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেই পরিচয় কাজে লাগিয়েই তিনি ছেলে পরিচয়ে এক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন।