প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

চট্টগ্রাম নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন (বাঁ থেকে তৃতীয়), ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান (বাঁ থেকে চতুর্থ) এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)। আজ হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেজবান হলেপ্রথম আলো

চট্টগ্রাম নগরকে টেকসই ও বাসযোগ্য করতে হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, নগরে প্রতিদিন জমা হওয়া ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্যের মধ্যে ১ হাজার টন সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা, নদী ও উন্মুক্ত স্থানে চলে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র শাহাদাত হোসেন এ কথা বলেন। আজ সোমবার নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেজবান হলে এ অনুষ্ঠান হয়।

নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিটি করপোরেশন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩২ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ সচেতন না হলে খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কারে শুধু টাকা খরচ করে কোনো লাভ হবে না। দ্বিতীয়ত, শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ডোর–টু–ডোর প্রকল্প সফল হলে সংগ্রহের আওতার বাইরে থাকা ১ হাজার টন ময়লার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন
ছবি: প্রথম আলো

অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, খাল থেকে বর্জ্য অপসারণে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বড় খালের মাঝখানে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় ছোট ডিঙিনৌকা ব্যবহার করে প্লাস্টিক ও পলিথিন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে ইউনিলিভার। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসার সঙ্গে চলমান অংশীদারত্বের কার্যকারিতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—যার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা, সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আরও টেকসই নগর–ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান
ছবি: প্রথম আলো

অনুষ্ঠানে ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছে, যা কর্মীদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির সুযোগও বাড়াচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুজন স্ক্র্যাপ (ভাঙারিওয়ালা) ক্রেতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।