বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মিজানুর রহমান প্রথমে রুপনা চাকমার বাড়িতে যান। এ সময় তিনি রুপনা চাকমার মা কালাসোনা চাকমার হাতে দেড় লাখ টাকার চেক তুলে দেন। বাংলাদেশের গোলপোস্ট আগলে থাকা অতন্দ্রপ্রহরী ছিলেন রুপনা। টুর্নামেন্টে সেরা গোলকিপারের পুরস্কারও রুপনাই পেয়েছেন।

রুপনার মা কালাসোনা চাকমা বলেন, ‘রুপনা গর্ভে থাকা অবস্থায় আমার স্বামী মারা যান। অনেক কষ্ট করে রুপনাসহ চার সন্তানকে বড় করেছি। চার ভাইবোনের মধ্যে রুপনা সবার ছোট। ছোট মেয়েই সবার মুখ উজ্জ্বল করে দিয়েছে। আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের গ্রামের লোকজনও খুশি।’

এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে শিরোপাজয়ী দলের আরেক ফুটবলার ঋতুপর্ণার বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় ঋতুপর্ণার মা বোজোপতি চাকমার হাতে উপহারের দেড় লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। ঋতুপর্ণার বাবাও অনেক আগে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাঙামাটির দুই কৃতী ফুটবলারের পরিবারকে অভিনন্দন জানাতে আজ বিকেলে দুই ফুটবলারের বাড়িতে গিয়েছি। পুরস্কার হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুপনা ও ঋতুপর্ণার মায়ের হাতে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। দুই ফুটবলারের বাড়িতে গিয়ে দেখলাম, রুপনার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তাঁদের বাড়ি জরাজীর্ণ। বাড়ির সংস্কারের জন্য রুপনাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।’

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য বরুন দেওয়ান, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ নিলুপা দেওয়ান রুপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়েছিলেন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম প্রথম আলোকে বলেন, প্রত্যন্ত ও দুর্গম গ্রামে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েও রাঙামাটির দুই মেয়ে দেশের জন্য সম্মান নিয়ে এসেছেন। ক্রীড়া সংস্থা তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। তাঁরা বাড়িতে এলে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন