যশোরে কুপিয়ে হত্যার পর নারীর লাশ বস্তায় ভরে লুকানোর চেষ্টা, পুত্রবধূ আটক

লাশের প্রতীকী ছবি

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় সকিনা বেগম নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর তাঁর পুত্রবধূ মরিয়ম খাতুন মরদেহ বস্তায় ভরে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রক্তমাখা দা–সহ মরিয়মকে পুলিশ আটক করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিহত সকিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সকিনা বেগম যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মরিয়ম খাতুন দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁর শাশুড়ি সকিনা বেগমকে হত্যা করেন। হত্যার পর সখিনার লাশ একটি বস্তায় ভরে বসতবাড়ির সামনে লুকিয়ে রাখেন। পরে তাঁদের স্বজনদের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে রক্তমাখা দা, অন্যান্য আলামতসহ মরিয়ম খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ ব্রিফিং বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম গতকাল সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে বাসায় রান্না হয়নি জানিয়ে তাঁর স্ত্রী মরিয়ম তাঁকে বাইরে থেকে খেয়ে নিতে বলেন। এ সময় শহিদুল তাঁর মায়ের খোঁজ করলে তাঁকে বলা হয়, তিনি বাইরে গেছেন। রাত ১০টার দিকে শহিদুল বাসায় ফিরে আবার মায়ের খোঁজ নেন। তখনো তাঁর স্ত্রী জানান, তিনি (সখিনা বেগম) বাসায় ফেরেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় থানায় গিয়ে শহিদুল পুলিশকে অবহিত করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বসতবাড়ির সামনে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল। তিনি ও তাঁর বোন শাহিদা বেগম লাশটি তাঁদের মায়ের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মরিয়ম খাতুনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন।