স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক তালিকায় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আবদুর রহমান বদির নাম আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত। বিভিন্নজনকে মারধরসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আলোচিত-সমালোচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে লড়ার বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। বদিকে ঠেকাতে অনেকে মাঠে নেমেছেন। তবে কাউন্সিলরদের ভোটাভুটি হলে বদির জয়লাভের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি বর্তমান কমিটির সম্মেলন হয়েছিল। তখন ৬৫ সদস্যের কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন জাবেদ ইকবাল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর।

মোহাম্মদ আলম বাহাদুর এবারও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জানিয়ে বলেন, তাঁর প্যানেলে সভাপতি পদে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। বদি নেতৃত্বে পৌর কমিটি আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি।

সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, সম্মেলন সফল করার কাজে তিনি ব্যস্ত আছেন। কে কোন পদে লড়ছেন, তাঁর জানা নেই। তবে কাউন্সিলররা চাইলে তিনি এবারও সভাপতি প্রার্থী হবেন।

এবারে সম্মেলনে কাউন্সিলর ২৫১ জন। তালিকায় আত্মসমর্পণকারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদককারবারী, বিএনপি–সমর্থক ও বিতর্কিত লোকজনের অন্তর্ভুক্তি, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দেওয়া নিয়ে নেতাদের মধ্যে সমালোচনা ও বিরোধ চলছে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ হোসেন বলেন, আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত—এমন ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পৌর কমিটি গঠন প্রয়োজন। এ জন্য দরকার সঠিক কাউন্সিলরের তালিকা। মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়তে তিনি এবার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের কয়েকজন নেতা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুর রহমান বদি দলে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চান। এ জন্য তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে লড়ছেন। যদিও তিনি এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে চেয়েছিলেন বেশ কয়েকবার।

সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আবদুর রহমান বদি বলেন, পৌর কমিটির সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। তবে তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা চাপ দিচ্ছেন। বলছেন দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে। এ ক্ষেত্রে সভাপতি পদে তাঁর বিকল্প নেই। দলীয় কাউন্সিল ও নেতা-কর্মীরা চাইলে তিনি সভাপতি পদে লড়বেন।

কাল বেলা ১১টায় সম্মেলন শুরু হচ্ছে টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে। সম্মেলনের প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাংগঠনিক টিমের প্রধান রাজা শাহ আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক টিমের সদস্য রেজাউল করিম, রণজিৎ দাশ, আবদুর রহমান বদি ও এইচ এম ইউনুছ বাঙ্গালী। সভাপতিত্ব করবেন পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ মনো। তিনি বদির বিরুদ্ধে লড়ছেন।

গত ২২ এপ্রিল টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে পৌরসভার বর্ধিত সভায় দলীয় বৈঠকে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ মনো ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউছুফ ভুট্টোকে মারধর করেন আবদুর রহমান বদিসহ তাঁর অনুসারীরা। আগামীকালের সম্মেলনে বদি বিশেষ অতিথি থাকবেন। আর সভাপতিত্ব করবেন মোহাম্মদ ইউছুফ মনো নিজেই।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ ইউছুফ মনো বলেন, ওই ঘটনার পর ৭ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে আবদুর রহমান বদি তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনিও ক্ষমা করে দিয়েছেন। এবারের সম্মেলনে তিনিও সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন। অধিকাংশ কাউন্সিলর তাঁর পক্ষে আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন