ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রচলিত নিয়মে পদোন্নতি বহাল রাখতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার আইনি নোটিশ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নীতিমালা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে ভিন্ন পদ্ধতিতে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এক কর্মকর্তার পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে বিবাদী করা হয়েছে ব্রির মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ ১৩ জনকে।

ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহা. রফিকুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ কুমার সাহা এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। এতে প্রচলিত বিষয়ভিত্তিক (ডিসিপ্লিন-বেজড) পদোন্নতি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিতে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা এবং গবেষণাভিত্তিক বিশেষায়নের সমন্বয়ে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কার্যক্রমও বিভাগভিত্তিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি ‘অ্যান্টিডেটেড সিনিয়রিটি’ বা পশ্চাদ-তারিখভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান গবেষণা কাঠামো ও জনবল ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে আইনজীবী কল্যাণ কুমার সাহার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পদোন্নতি পদ্ধতি বিদ্যমান নীতিমালা ও নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) প্রণীত অনুযায়ী বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি হতে হবে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার সমন্বয়ে। তা অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে। শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ নেই।

একইভাবে, ব্রি প্রবিধানমালা ২০১১ (সংশোধিত ২০১৯)-এও বিভাগভিত্তিক কাঠামোর মধ্যেই নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। ফলে এই কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো পদোন্নতি দেওয়া হলে তা নিয়মবহির্ভূত হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের দাবি, ব্রির প্রশাসনিক বাস্তবতায় পদ সৃষ্টি, দায়িত্ব বণ্টন এবং গবেষণা কার্যক্রম—সবকিছুই বিভাগভিত্তিকভাবে পরিচালিত হয়। ফলে পদোন্নতিও একই কাঠামো অনুসরণ করা যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। অন্যথায় গবেষণার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ব্রির বর্তমান মহাপরিচালক অবসরে যাওয়ার (এলপিআর) আগে শেষ সময়ে একটি মহলের প্রভাবে এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে নেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিপন্থী হবে।

জানতে চাইলে ব্রির মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনভাবে পদোন্নতি হয়েছে কি না বা হয় কি না, আমার জানা নেই। উনি আইনি নোটিশ করেছে ধারণার ওপর ভিত্তি করে।’

ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্রির মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক কৃষি গবেষণা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।