বিক্ষোভ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি ফেডারেশনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার সরকার।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এর আগে ওই দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। এরই ধারবাহিকতায় তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব এবং মহাপরিচালককে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পাঠান। পরে তারা মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে তাঁরা পর্যাপ্ত পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের দুর্নীতির প্রমাণ দেন। কিন্তু তাঁরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন যে ওই তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে তাঁদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।

এ পরিস্থিতিতে তাঁদের অপসারণ ও বিভাগীয় শাস্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশে রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষক সমিতির নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকার। সভা থেকে কামাল হোসেন ও আবু রেজাকে দ্রুত অপসারণ ও তঁবিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি ফেডারেশনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, এই কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সব প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে। তা ছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা গণমাধ্যমকে তাঁদের দুর্ভোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দুই দিনের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা শিক্ষা ভবনের ভেতরের চত্বরে গিয়ে কর্মসূচি পালন করবেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, এমন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন তিনি পাননি। আর এখানে তিনটি আইডিতে কাজ হয়। সবকিছুই অনলাইনে হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতির রাজশাহী শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক, রাজশাহী জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এস এম রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী জেলার সহসভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল আজিজ মণ্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন, বাঘা উপজেলার কেশবপুর কলেজের শিক্ষক কাউসার জামী, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলার সদস্য অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান, সদস্য অধ্যক্ষ আব্বাস আলী, তানোর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোকসেদুর রহমান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতির রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মারুফ হোসেন, পুঠিয়া উপজেলার সদস্য অধ্যাপক আবু জাফর, গোদাগাড়ীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান প্রমুখ।