যে এলাকায় ককটেল বানাতে গিয়ে ৩ জনের মৃত্যু, সেখানেই আবার বিস্ফোরণ

শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাশপুরে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের একটি নির্জন স্থানে কলাবাগানে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণে কোনো মানুষ ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় ছুটে যায়।

জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বিভিন্ন সময় দেশব্যাপী আলোচনা তৈরি হয়েছে। ৩১ মে জানখারকান্দি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ হয়। পুলিশ ওই ঘটনার কোনো তথ্য এখনো উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি। আজ যে স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার পাশে গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের সাত্তার ব্যাপারীর বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে গ্রামের মানুষ দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। বিস্ফোরণে ওই কলাবাগানের একটি স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গাছের ডালা ও পাতা ঝলসে গেছে।
গ্রামবাসী ঘটনাটি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দুপুরে জাজিরা থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই গ্রামে যান। সেখান থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বিলাশপুর ইউনিয়নটি পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা একটি এলাকা। একদিকে নড়িয়া উপজেলা, আরেক দিকে সদর উপজেলা। ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিলাশপুরে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটে। ওই সব সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিলাশপুরের বিভিন্ন পক্ষের লোকজন ককটেল তৈরি করে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

গত ৮ জানুয়ারি বিলাশপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর বিভিন্ন সময় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেসব স্থান থেকে ককটেল ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

গত ২৯ মে বিলাশপুরের পাশের জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে গিয়ে ককটেল পায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু। সেই ককটেল হাতে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। ওই বিস্ফোরণে শামসুল মাদবরের ১০ বছর বয়সী ছেলে রাহাতের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া গত ছয় মাসে জাজিরার অন্তত ১৫টি স্থানে সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিলাশপুরের একটি নির্জন স্থানে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। দুই সপ্তাহ আগেও ওই এলাকায় একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরিত ককটেল ওই স্থানে কীভাবে এল, কারা ওখানে তা মজুত করেছে, তা তদন্ত করা হবে।