পদ্মায় বাসডুবি: ঢাকায় পৌঁছে মাকে কল দেবেন বলেছিলেন রাজীব, ফিরলেন লাশ হয়ে

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় যাচ্ছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসার রাজীব বিশ্বাসছবি: সংগৃহীত

দুই বছর ধরে ঢাকার সাভারের আশুলিয়াতে ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসারের চাকরি করতেন রাজীব বিশ্বাস (৩২)। ঈদের ছুটি শেষে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাগরবাড়িয়া থেকে গতকাল বুধবার তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মায়ের সঙ্গে রাজীবের কথা হয়েছিল। তিনি মাকে বলেছিলেন, ঢাকায় পৌঁছে কল করবেন। কিন্তু সেই কল আর আসেনি। খবর আসে, গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পানিতে ডুবে তিনি মারা গেছেন।

আরও পড়ুন

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজীবের লাশ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার স্থানীয় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশানে দাহ করা হয়।

রাজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা দুই ভাই। এইচএসসি পাস করে রাজীব দুই বছর ধরে আশুলিয়াতে চাকরি করেন। ছোট ভাই সজীব বিশ্বাস ঢাকাতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাবা হিমাংশু বিশ্বাস বাড়িতে কৃষিকাজ করেন। মা রেখা রানী বিশ্বাস গৃহিণী।

মহাশ্মশানে মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজীবের বাবা হিমাংশু বিশ্বাস। তিনি বলেন, গতকাল দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন রাজীব। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বাড়িতে তাঁর মাকে বলে যান, পৌঁছে কল করে জানাবেন। কিন্তু বিকেলে তাঁরা জানতে পারেন, ছেলে যে বাসে ছিলেন, সেই বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। এরপর ছেলের মৃত্যুর খবর পান। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন

রাজীবের ছোট ভাই সজীব বিশ্বাস বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে তিনি রওনা দেন। স্বজনেরা রাতেই ভাইয়ের লাশ বুঝে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ঢাকায় যে প্রতিষ্ঠানে রাজীব চাকরি করতেন, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক আল মামুনও খোকসায় আসেন। তিনি বলেন, রাজীব খুব ভালো ও বিশ্বস্ত ছিলেন। কাজের প্রতি তিনি খুবই মনোযোগী ছিলেন। তিনি একজন ভালো কর্মী হারালেন।

আরও পড়ুন