নিতাই রায়কে ‘সরি’ বলে একমঞ্চে যুবদলের রবিউল

বিরোধ শেষে হাতে হাত মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন মাগুরা-২ আসনের বিএনপির নেতারা। একমঞ্চে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী এবং যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম (মাইক হাতে) সহ অন্যরা। গত শনিবার মাগুরার মহম্মদপুরেছবি: প্রথম আলো

মাগুরা-২ আসনে (মহম্মদপুর, শালিখা ও সদর উপজেলার ৪ ইউনিয়ন) দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রকাশ্য বিভক্তি কাটিয়ে অবশেষে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির দুটি পক্ষ। গতকাল শনিবার দিনভর নির্বাচনী এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (মহম্মদপুর সদর, দক্ষিণ মাগুরার শত্রুজিৎপুর ও শালিখার আড়পাড়া) সমন্বয় সভার মাধ্যমে বিবাদমান পক্ষগুলো একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতের তিক্ততা ভুলে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাগুরা-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই বিভেদ আরও প্রকাশ্যে আসে। একদিকে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষের প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী, অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক (কামাল) ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম (নয়ন)। আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন ছাড়াও নানা ইস্যুতে তাঁদের বিভক্তি স্পষ্ট দেখা যায়।

তবে গতকাল শনিবারের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। এদিন সকালে মহম্মদপুর সদর উপজেলা সদরে সভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম প্রকাশ্যে নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চান। রবিউল বলেন, ‘ফেসবুক পার্টির উসকানিতে দাদার (নিতাই রায় চৌধুরী) নামে আমি অনেক বাজে কথা বলেছি। আমি তার জন্য সবার সামনে সরি বলছি। দাদা যেন আমার জন্য দোয়া করেন।’

এ সময় পাশে বসে থাকা নিতাই রায় চৌধুরী হাসিমুখে রবিউল ইসলামের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে প্রশংসা জানান। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘অতীতে কোনো ভুল থাকলে আপনারা ক্ষমা করবেন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী দিনে আমি কারও সঙ্গে কোনো বৈষম্য করব না।’

এই দুই নেতার পাশাপাশি সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, সদস্যসচিব ও মাগুরা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান খান ও আমিনুর রহমান খানসহ উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

মহম্মদপুরের সভার পর দুপুরে দক্ষিণ মাগুরা এবং বিকেলে শালিখা উপজেলার আড়পাড়ায় পৃথক দুটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সভাতেই জেলার ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিতাই রায় চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপির একটি অংশ। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক (কামাল)। পরে অবশ্য তিনি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তারপরও কাজী সালিমুল হক ও রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপির একটি অংশের নেতা-কর্মীদের ভোটের মাঠে দেখা যায়নি।
দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতাদের একই মঞ্চে দেখে উজ্জীবিত মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার সাধারণ নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, এই ঐক্য নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকলে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ধানের শীষের প্রশ্নে আমরা এখন ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ। আজ তিনটি সভায় সব পক্ষকে নিয়ে আমরা সমন্বয় করেছি। এখন থেকে মাঠে কোনো বিভেদ থাকবে না।’